Saturday, October 24, 2020

ক্যান্টনমেন্ট প্রোগ্রামের গান

 বরিশালে আইয়ো বন্ধু আইয়ো মোগো বাড়ি
আদর আস্তিক করমুহানে মোরা যদ্দুর পারি।।

মোডা চাউলের ভাত খাওয়ামু খোপের রাওয়া দিয়া
দুর্গা সাগর গুইট্টার মসজিদ দেহামু ঘুরাইয়া
কির্তনখোলা নদীডারে, সুগন্ধিয়া নদীডারে
নাওয়ে দিমু পাড়ি।।

মেয়াবাড়ির মসজিদ আছে, আছে অক্সফোর্ট মিশন
উলাইন্নার চৌধুরি বাড়ি দেহার মতোন
লাকুটিয়ার জমিদার বাড়ি, চাখার জাদুঘর
রব সেরনিয়াবাদ সেতু আছে বড়ই মনোহর
মুক্তিযোদ্ধা পার্ক, বদ্ধভুমি
বঙ্গবন্ধু উদ্যান তোমার
মনডা নেবে কাড়ি।।

বিবির পুহুর পাড়ে খামু ভাজাপোড়া যত
সাতলার বিল পেয়ারা বাগান ঘুরমু মনের মত
গুনাইবিবির পালা দেকমু, গৈলার রয়ানী দেকমু
আরো হুনমু জারী।।

ট্যাক ট্যাক ট্যাক ট্যাক ট্যাক ট্যাক ট্যাক
ট্যাক ট্যাক ট্যাক ট্যাক ট্যাক ট্যাক
আইজগো অইবে ঢু ঢু খেলা সবাই আইয়া দেক
পুবের কোলায় কাটছি রে কোট
দুই কান্দার বাইশ জনে মোট
উত্তর কান্দা দক্ষিন কান্দার ইজ্জতের লড়াই
আইজগো মোরা জানের দুষমন এমনেতে ভাই ভাই।

দক্ষিন কান্দার আয়নাল গাজী
খুব পালোয়ান এমনে পাজী
গত খেলায় ধইরয়া মোরে দেল্হে একটা চাপ
আইজগো লমু দেইক্কা অরে
এমন জাতা দিমু, পরে
জোবায় জোবায়  ওডবে ব্যাতা কইবে মোরে বাপ
খেলা অইবে বাঘে বাঘে নাই কোন মাপ নাই।। 

সুন্দরীরা একটু দুরে
ভুলাইতে চায় চোহের সুরে
আইজগো ওসব  থুইয়া আরে মন দিমু খেলায়
জেতলে ওসব এমনেই আছে
মনের মানুষ বুহের মাঝে
জিত্তা যাইয়া প্রস্তাব দিমু দেখি কেডা ঠেহায়
খেলা অইবে জান লাগাইয়া আইগো জেতা চাই।।

অলির কথা শুনে বকুল হাসে
কই তাহার মত তুমি আমার কথা শুনে হাসো না তো
ধরার  ধুলিতে যে ফাগুন আসে
কই তাহার মত তুমি আমার কাছে কভু আসো না তো।।

আকাশ পারে  আনেক দূরে
যেমন করে মেঘ যায় গো উড়ে।
যেমন করে সে হাওয়ায় ভাসে
কই তাহার মত তুমি আমার স্বপ্নে কভু ভাসো না তো।।

চাঁদের আলোয় রাত যায় যে ভরে
তাহার মত তুমি কর না কেন  গো ধন্য মোরে।

যেমন করে নীড়ে একটি পাখি
সাথীরে কাছে তার নেয় গো ডাকি
যেমন করে সে ভালবাসে
কই তাহার মত তুমি 
আমায় কভুও ভালবাসো না তো।।

(যদি) ভুল বুঝে চলে যাও যত খুশি ব্যথা দাও 
সব ব্যথা নীরবে সইবো 
বন্ধুরে, তোমার লেখা গানটারে গাইবো। 

মন গগনে ফুলবনে; তুমি বনমালী 
আমি তো সেদিন ছিলাম ; প্রথম গানের কলি। (২)
দুটি বীনা একই সুর -ভালবাসা কি মধুর (২)
যত দুরে তোমায় ছেড়ে যাইবো, বন্ধুরে।। 

যে গানের বিনিময়ে ভালোবাসাবাসি 
যেই গানের ছন্দে দিতাম মুক্তো ঝরা হাসি।
সেই মিলন রজনী; আজও তারে ভুলিনি 
বিরহ রাগিনী হয়ে বাঁচবো, বন্ধুরে।।

কুল হারা ফুল আমি; নাই কোনো ঠিকানা নাই 
ভুল বুঝোনা মোরে, যত দুরে ভেসে যাই। (২) .
পাবোনা জীবনের স্বাদ ; নিয়ে শুধু অপবাদ 
জলে পুরে ছাই হয়ে মরবো। বন্ধুরে ।।

ভাই বন্ধু আত্মীয় স্বজন কেউ রবে না পাশে 
মাতাল রাজ্জাকের শেষ পানের ডাক যদি নেমে আসে।
ধুলো কাদা মুছিয়া; বন্ধু তোর কাছে গিয়া 
চির নিদ্রায় ঢলে আমি পরবো বন্ধুরে ।।

কে যাস রে ভাটির গাঙ বাইয়া
আমার ভাইধন রে কইয়ো, নাইওর নিতো বইলা
তোরা কে যাস কে যাস।।
 
বছর খানি ঘুইরা গেল, গেল রে
ভাইয়ের দেখা পাইলাম না, পাইলাম না
কইলজা আমার পুইড়া গেল, গেল রে
ভাইয়ের দেখা পাইলাম না, পাইলাম না
ছিলাম রে… কতই আশা লইয়া
ভাই না আইলো গেল, গেল রথের মেলা চইলা
তোরা কে যাস কে যাস।।
 
প্রান কান্দে কান্দে প্রান কান্দে রে, প্রান কান্দে
নয়ন ঝরে ঝরে নয়ন ঝরে রে, নয়ন ঝরে
পোড়া মনরে বুঝাইলে বুঝে না
কান্দে কান্দে প্রান কান্দে।
সুজন মাঝিরে ভাইরে কইয়ো গিয়া
না আসিলে স্বপনেতে দেখা দিত বইলা
তোরা কে যাস কে যাস।।
 
সিঁন্দুরিয়া মেঘ উইড়া আইলো রে
ভাইয়ের খবর আনলো না, আনলো না
ভাটির চরে নৌকা ফিরা আইলো রে
ভাইয়ের খবর আনলো না, আনলো না
নির্দয় বিধি রে তুমিই সদয় হইয়া
ভাইরে আইনো নইলে আমার পরান যাবে জ্বইলা
তোরা কে যাস কে যাস।।

পাখি কখন জানি উড়ে যায়
একটা বদ হাওয়া লেগে খাঁচায়।।

খাঁচার আড়া প’লো ধসে
পাখি আর দাঁড়াবে কী সে।
ঐ ভাবনা ভাবছি বসে
চমক জ্বরা বইছে গায়।।

কার বা খাঁচায় কেবা পাখি,
কার জন্য মোর ঝরে আঁখি।
পাখি আমার এই আঙ্গিনায় থাকি
আমারে মজাইতে চায়।।

আগে যদি যেত জানা
জংলা কভু পোষ মানে না।
তবে উহার প্রেম করতাম না
লালন ফকির কেঁদে কয়।।

ঢং ঢংগা ঢং ঢং ঘন্টা বাজে ঢং কাশী বাজে টং
ময়ুর পঙ্খী ছুইট্টা চলে মনে লাগে রংরে মনে লাগে রং
দেলে লাগে রং ।।

চাঁদ বদনী মোহেরে দেকমু নাগো হাসি
ঠইগ্যা গেলে নৌকা বাইচে পরবে গলায় ফাসি
জাইত জাইবে মান জাইবে মোনের মানুষ মুক ঘুরাইয়া
কইবে মোগো সং ।।

আরে হেই লইগ্যা বৈডাহান মারো জোরে নওজোয়ান
জেতলে পামু ফুলের মালা নরোম হাতে খিললি পান।

সাব্বাস সাব্বাস রে এইতো গেছি আইয়া
সবার আগে ময়ুর পঙ্খি দ্যাহ সবাই চাইয়া
সবাইর মোহে আইল হাসি কেমনে বাজে ঘন্টা কাসি
বাজলো হ্যারা ঢং ।।

কাদের কুলের বউ গো
তুমি কাদের কুলের বউ
যমুনায় জল আনতে যাচ্ছো-
সঙ্গে নেই তো কেউ।।

যাচ্ছো তুমি হেসে হেসে
কাঁদতে হবে অবশেষে
আর কলসী তোমার যাবে ভেসে
ওই লাগলে জলের ঢেউ
(আরে) লাগলে প্রেমের ঢেউ।।

সুর ও কন্ঠ রামকুমার চট্টপাধ্যায়। গীতিকার লাল চাঁদ বরাল

x

Monday, June 24, 2019

ও বরষা রে সবাই তোকে বরণ করে

ও বরষা রে (২)
সবাই তোকে বরণ করে শুধু আষাঢ়ে
আমি জানি আমার চোখে তোর বাস বার মাস ।।

কত কবি গান লেখে তোর, মল্লারে গায়
কত তুলি রূপ দেখে তোর রঙ ভুলে যায়
তবু তোর বড়ই আপন এই বুকের আকাশ বার মাস।।

তিথি দিন ক্ষণ ভুলেছি কখন
কেন অকারণ মনে রাখি
পথ নেই কোথা চেয়ে থাকি।

তবু তো আষাঢ় শ্রাবণে, বৃষ্টি ধারায়
এ দুচোখ তোরই সাথে মিলে মিশে যায়
তুই গেলে কোথায় লুকাই আমার সর্বনাশ বার মাস।।

Wednesday, March 20, 2019

আমি তোমারই, তোমারই, তোমারই নাম গাই


আমি তোমারই, তোমারই, তোমারই নাম গাই
আমার নাম গাও তুমি,
আমি আকাশে রোদের দেশে 
ভেসে ভেসে বেড়াই
মেঘের পাহাড়ে চড় তুমি।।

ভালবাসা করে আশা তোমার অতল জল
শীতল করবে মরুভূমি,
জলে কেন ডাঙ্গায় আমি ডুবতেও রাজি আছি
যদি ভাসিয়ে তোল তুমি।।

তুমি এসো ফসলের ডাকে বটের ঝুরির ফাঁকে
আর এসো স্বপ্ন ঘুমে,
এই স্বপ্ন দুচোখ খুলে জেগে দেখা যায়
যদি নয়ন তারায় বসো তুমি।।

কবিতা গেল মিছিলে মিছিল নিয়েছে চিলে
অসহায় জন্মভূমি,
আজ একতারার ছিলা তোমার স্পর্শ চায়
যদি টঙ্কার দেও তুমি।।

Sunday, October 1, 2017

বাজেরে বাজে ঢোল আর ঢাক এলো রে পহেলা বৈশাখ

বাজেরে বাজে ঢোল আর ঢাক
এলো রে পহেলা বৈশাখ
আজ কৃষ্ণচুড়ার ডালে
লেগেছে ডালে ডালে
সেই রঙ হৃদয়ে ছড়াক।।

বাতাসে ছড়াল সুগন্ধ
এ মনে এনে দিল ছন্দ
সেই ছন্দে ছন্দে সুখে আনন্দে
সব ব্যথা ধুয়ে মুছে যাক ।।

জেগেছে আজ সারা দেশটা
প্রাণেরই মেলাতে সে রেশটা
আজ বলছে মন তো – মনে আনন্দ
এই আশা ভালবাসা থাক।।

মেলায় যাইরে

জেগেছে বাঙ্গালির ঘরে ঘরে এ কি মাতন দোলা
জেগেছে সুরেরই তালে তালে হৃদয় মাতন দোলা
বছর ঘুরে এলো আরেক প্রভাত নিয়ে
ফিরে এলো সুরের মঞ্জুরী
পলাশ শিমুল গাছে লেগেছে আগুন
এ বুঝি বৈশাখ এলেই শুনি

মেলায় যাইরে মেলায় যাইরে
বাসন্তী রঙ শাড়ি পড়ে ললনারা হেটে যায়
ঐ বখাটে ছেলেদের ভিড়ে ললনাদের রেহাই নাই
মেলায় যাই রে মেলায় যাই রে।।

জেগেছে রমণীর খোপাতে বেলী ফুলের মালা
ভিনদেশী সুগন্ধী মেখে আজ প্রেমের কথা বলা
রমনা বটমূলে গান থেমে গেলে
প্রখর রোদে এ যেন মিছিল চলে
ঢাকার রাজপথে রঙের মেলায়
এ বুঝি বৈশাখ এলেই শুনি...

মেলায় যাইরে মেলায় যাইরে
বাসন্তী রঙ শাড়ি পড়ে ললনারা হেটে যায়
ঐ বখাটে ছেলেদের ভিড়ে ললনাদের রেহাই নাই
মেলায় যাই রে মেলায় যাই রে

এসো হে বৈশাখ

এসো হে বৈশাখ, এসো এসো 

এসো হে বৈশাখ, এসো এসো
তাপস নিঃশ্বাস বায়ে
মুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে
বৎসরের আবর্জনা দূর হয়ে যাক যাক যাক
এসো এসো...

যাক পুরাতন স্মৃতি
যাক ভুলে যাওয়া গীতি
যাক অশ্রুবাষ্প সুদূরে মিলাক
যাক যাক
এসো এসো...

মুছে যাক গ্লানি ঘুচে যাক জরা
অগ্নি স্নানে শুচি হোক ধরা
রসের আবেশ রাশি
শুষ্ক করি দাও আসি
আনো আনো, আনো তব প্রলয়ের শাঁখ
মায়ার কুঁজঝটি জাল যাক, দূরে যাক যাক যাক
এসো এসো...

Saturday, September 30, 2017

ঢাকের তালে কোমর দোলে (দুর্গাপুজা) - C

ঢাকের তালে কোমর দোলে খুশীতে নাচে মন,
আজ বাজা কাঁসর জমা আসর
থাকবে মা আর কতক্ষন।
মায়ের রুপে মন ভরে যায়
প্রনাম জানা ঐ রাঙা পায়
ওরে ধুনচি দু’হাতে নাচরে এখন।।

(আসবে আমার মা বছর পরে,
দু’চোখ তবু হায় জলে ভরে,
আসবে মা লক্ষ্মী ক’দিন পরে
মন যে তবু হায় কেমন করে)

আমি জানাবো মাকে জানাবো
আজ আমার এ মনের আশা
যেন এ মনে এই জীবনে
থাকে এমন এ ভালোবাসা
মায়ের ভাসান হবে রে আজ
চলছে বরন আরতি নাচ
ঢ্যাং কুরা কুর ঢ্যাং কুরা কুর তোলরে মাতন।।

আমি জানিনা কেন জানিনা
আজ নিজেকে নতুন লাগে
মন সেজেছে রং লেগেছে
এত খুশী দেখেনি আগে
আমি পেয়েছি ফিরে পেয়েছি
কত দিনের পরে এই হাসি
তাই মনে হয় শুধু মনে হয়
যেন এভাবে সুখে ভাসি
বরন শেষে সিঁদুর খেলা
থাকবে মন এ বিদায় বেলা
আজ সিঁদুরে সোহাগে রাঙা জীবন।।